শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
দেশ জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতন গড়ে উঠেছে অনিবন্ধিত অনলাইন ও ফেসবুক পেজ। এসব অনিবন্ধন অনলাইনে ফেসবুক পেজের প্রতিনিধিরা নামসর্বস্ব পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারি বেসরকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে এসব কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব কথিত সাংবাদিকদের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। সিদ্ধিরগঞ্জে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ কথিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধান্দা বাজিতে ব্যস্ত থাকে। সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস,পদ্মা ডিপো, মেঘনা ডিপো, ডিপিডিসি,পাসপোর্ট অফিসসহ সরকারি বেসরকারি ও বিভিন্ন কল কারখানায় এসব কথিত সাংবাদিকদের জ্বালায় অতিষ্ট সরকারী, বেসরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সংগ্রহের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসে কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এক কথায় সিদ্ধিরগঞ্জে কথিত সাংবাদিকদের দাপট চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এসব কথিত সাংবাদিকরা মটরসাইকেলে প্রেস লেখা ও মোবাইল ক্যামেরা ঝুলিয়ে বিভিন্ন অফিসে দল বেধে এসে কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদাবাজি করছে। বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে চাঁদা দাবি করছে। এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই বলেন এসব পত্রিকা কখনো দেখিনি ও নামও শুনিনি। এসব পত্রিকা আদৌ আছে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ আমাদের।
সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন সরকারি অফিসে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি চক্র সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে অনিবন্ধিত অনলাইন ও ফেসবুকে অপপ্রচার করে হয়রানির হুমকি দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে একপ্রকার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি আমরা। শুধু তাই নয় বিভিন্ন তদবির নিয়ে আসে এসব কথিত সাংবাদিকরা। এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, তথ্য সংগ্রহের নামে কারখানায় এসে চাঁদা দাবি করছে এসব সাংবাদিকরা। আমরা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে বৈধ ভাবে ব্যবসা করছি।
এসব নিরক্ষর ও কথিত সাংবাদিকদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের উপর প্রভাব পড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাই এসব কথিত সাংবাদিকদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানায়, গোদনাইল ভূমি অফিস , সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস, পদ্মা ডিপো, মেঘনা ডিপো, খাদ্যগুদামসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন নামধারী সাংবাদিকদের আনাগোনা চোঁখে পড়ার মত। বিভিন্ন অজুহাতে কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা দাবিও করছে তারা। এসব কথিত সাংবাদিকরা বেশিরভাগ ঢাকা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে এসে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে। এতে করে সিদ্ধিরগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকদের উপর এর প্রভাব পড়ছে।
তাই এসব সাংবাদিকের লাগাম টেনে ধরতে তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিয়ে অপতৎপরতা কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকরা জানান, এসব কথিত সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত। অনিবন্ধিত অনলাইন, ফেসবুক পেইজের নাম দিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করছে এসব তথ্য আমরা পাচ্ছি। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে নিজেদের সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়ার সেই মন-মানসিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি অফিসগুলো, পাসপোর্ট অফিস, ডিপিডিসি সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদাবাজি করছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই এসব কথিত সাংবাদিকদের আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
উক্ত বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, কোন সাংবাদিক যদি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাউকে হুমকি-ধামকি ও অনৈতিক ভাবে অর্থ দাবি করে তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের বিষয়ে কাজ করছে সরকার। আইনটি পাস হয়ে গেলো অপ-সাংবাদিকতা কমে যাবে। পেশাদার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রায়হান কবির আরও বলেন, আমাদের ভূমি অফিসগুলোতে স্বচ্ছতা ফেরাতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। তাই যে কোন সংবাদ পরিবেশনের আগে যাচাই-বাছাই করার আহবান জানান তিনি।