dainik rswadesh
- ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ / ৮৯ বার পঠিত

সিদ্ধিরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৬ জন গুরুতর আহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবীতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার প্রধান ফটক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৪ঠা ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
এসময় নিহতের মেয়ে বলেন, আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বহিরাগত লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে আমার ভাই, আমার মা ও বাবা সকলকে গুরুতর আহত করেছে। এই শোকে আমরা মা স্ট্রোক করে মারা যান। ওরা কীভাবে পুলিশের সামনে এতগুলো মানুষকে মারল। আমরা মামলা করতে গেলে তারা মামলা নেয়নি। তারা এখনও হুমকি দিচ্ছে আমার বাবাকে যেখানে পাবে মেরে ফেলবে। আমার বাবা, আমার ভাইয়েরা মায়ের জানাজায় যেতে পারেনি। আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, এসআই মাহাবুব আমাদের সেখান থেকে এনে পুলিশের সামনে নামিয়ে দিয়েছে। বলে আপনাদের বাঁচিয়ে এনেছি। মেরে ফেলেনি ভাগ্য ভাল। প্রশাসনের সামনে কীভাবে আমার বাবাকে মারল আমি এর বিচার চাই।
নিহতের ছেলে রোমান জানান, আমরা সে বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার ভাইকে মারছে। আমি সেখানে ঠেকাতে গেলে আমাকে মারধর করে কুপিয়ে আহত করেছে। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। এসআই মাহাবুবের সামনে আমাদের মেরেছে। আমাদের পুলিশের গাড়িতে ওঠানোর সময়ও আমার বাবাকে কোপ দিয়েছে। আমাদের থানায় না নিয়ে চিকিৎসা না দিয়ে আমাদের সিদ্ধিরগঞ্জ পুলের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, রাতে আমার বাবা মামলা করতে আসলে তারা মামলা নেয়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন বলেছেন, তারা বিএনপি করে। ওরা আইয়ুব আলী মুন্সীর লোক। তারা বললে মামলা হবে, নয়ত হবে না। এর পরের দিন সকালে আমার মা মারা যায়।
এদিকে বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ চলতে থাকলে এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিন আলম। আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমাদের অফিসারের অনেক স্বল্পতা রয়েছে। এ নিয়েই আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে অবশ্যই আমরা ব্যাবস্থা নেব। এখানে সঠিক বিচার হবে, এর কোন ব্যত্যয় হবে না।
এর আগে গত ১লা ডিসেম্বর বাসা ভাড়া চাইতে গেলে আশরাফ মিয়া ও তার ছেলেদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২রা ডিসেম্বর মোঃ আশরাফ মিয়া (৫২) বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- মোঃ মনির হোসেন (৩৫), চাঁন মিয়া (৬৫), জাহান (১৯), ওয়াদুদ (২৮), গনি মিয়া (৫০), নাজমুল (৩০)।