বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের মক্কীনগর এলাকায় মসজিদের মধ্যে মোঃ মামুন (৩০) নামে এক রোজাদার ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পতিত আওয়ামীলীগের দোসর মফিজ হোসেন মজু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) আসরের নামাজ শেষে রোজাদার ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মামুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মহম্মদ আব্দুর বারিককে অবহিত করেছেন। ওসি এ বিষয়ে বলেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এই থানায় চলতে দেওয়া যাবেনা।
ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তিনি আইনগতভাবে বিষয়টি দেখবেন বলে ভুক্তভোগীকে আশ্বস্ত করেছেন। ঘটনার বিবরনে জানাগেছে, নাসিক ১নং ওয়ার্ডের মক্কীনগর এলাকার একটি অংশের আবাসিক ভবনের সুয়ারেজের পানি চলাচলের ড্রেন বালুতে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ড্রেন উপচিয়ে রাস্তা ডুবে থাকে। যেহেতু সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নেই তাই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বাড়ির মালিকরা মিলে নিজ খরচে ড্রেন পরিস্কার করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। এতে বাধ সাধে মক্কীনগর এলাকার আওয়ামীলীগের দোসর মফিজ হোসেন মজু। সে কোনভাবেই এ কাজ করতে দেবেনা এবং তার কাছে কেন বলা হয়নি। তিনি নিজেকে ঐ এলাকার স্বঘোষিত সভাপতি দাবি করেন। বুধবার আসরের নামাজের পর ওই যুবক মসজিদের মধ্যে গেলে মজু তাকে বলে এটা করা যাবেনা, , এ নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে মামুনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। নামাজ শেষে ওই যুবক মজুকে বলেন আপনি অযথা আমাকে গালিগালাজ করলেন এবং চড়থাপ্পড় মারতে চাইলেন কেন কাকা। এ কথা বলতেই মজু মসজিদের মধ্যে মুসুল্লীদের সামনেই রোজাদার মামুনকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করে ও এলাপাথাড়ি লাথি মারতে থাকেন। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সবাই আওয়ামীলীগের দোসর মজুকে ধিক্কার জানায়। অভিযোগ রয়েছে মজু স্বঘোষিত দক্ষিণ হিরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি দাবি করে এবং একই এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের মোতয়াল্লি দাবি করে নানা অপকর্ম করে চলছে। মক্কীনগর এলাকায় বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য মজুকে রুম প্রতি ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। প্রতি বাড়ি থেকে ১০০০ থেকে ২০০০ করে টাকা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে বাড়ির গেটে তালা লাগানোর হুমকি এবং ময়লা দিয়ে আবদ্ধ করে রাখার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে থাকে। এছাড়া মসজিদের আয় ব্যয়ের কোন হিসেব সে কাউকে দেয়না। এলাকায় ভূমিদস্যূ হিসেবেও মজু পরিচিত।
মফিজ হোসেন মজু রোজাদার মামুনকে মসজিদের মধ্যে মারধর করার কথা স্বীকার করে বলেন এটা ভুল হয়েছে। তিনি আরও বলেন ড্রেন পরিস্কার করার জন্য সিটি করপোরেশন থেকে করাবো বলেছি এ নিয়ে কথা কাটা কাটির সময় আমি উত্তেজিত হয়ে রোজাদারকে মসজিদের মধ্যে মারধর করেছি, প্রতি বাড়ি থেকে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার জন্য মজুর সিটি করপোরেশনের থেকে কোন ইজারা নেই। তারপরও কিভাবে প্রতি বাড়ি থেকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে এ ব্যাপারে সে কিছু বলেনি। মসজিদের আয়ব্যয় হিসেবের ব্যাপারেও সে কোন কথা বলেননি। এলাকায় ভূমি দস্যুতার ব্যাপারে সে বলে আমি কোন ভূমি দস্যুতা করিনি।
ভুক্তভোগী মামুন বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমাদের ড্রেন দিয়ে পানি চলাচল করতে পারেনা অধিকাংশ বাড়ির বাথরুমেও পানি প্রবেশ করে যন্ত্রনা দেয়। তাই আমরা বাড়িওয়ালারা চেষ্টা শুরু করেছি নিজেরা টাকা খরচ করে লেবার দিয়ে ড্রেন পরিস্কার করলে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট ময়লা পানিতে ডুববে না বাসা বাড়ির বাথরুমেও পানি ঢুকবেনা। কিন্তু মজু এলাকার স্বঘোষিত হর্তাকর্তা হওয়ায় আমাকে মসজিদের মধ্যে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মজু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবর রহমানের সহযোগী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে এখনো সে দাপুটে রয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মামুন পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।