‘অতিবৃষ্টিতে ও পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও হাওরের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দ্রæত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহŸান জানিয়েছে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ’র শীর্ষ নেতৃদ্বয় একই সঙ্গে পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত হাওর এলাকাকে দুর্গত ঘোষণা করে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবী জানিয়েছেন।’
রবিবার (৩ মে) বাংলাদেশ ন্যাপ প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তাকিন ভুইয়া স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ দাবি জানান।
তারা বলেন, ‘হাওরাঞ্চলে ফসল বলতে একটাই বোরো ধান। কৃষকের সারা বছরের খাদ্যের জোগান, আশা-ভরসা, স্বপ্ন সবকিছু এই ফসল ঘিরে আবর্তিত হয়। মাত্র কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেই ধান এখন পানির নিচে। চোখের সামনে পাকা ধান পচে যাচ্ছে। অথচ আর কয়েক দিন পরই কৃষকের গোলা ভরে যেত। পরিস্থিতি এতটাই করুণ, হাওরাঞ্চলের কৃষকের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে চলেছে। গবাদি পশুর খাবারেও সংকট দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে কৃষকের মাথায় হাত।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যার পর হাওর ব্যবস্থাপনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠিত হলেও এ বছর তারা উজানের ঢলের পানি ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ, বন্যা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাপনা সকল ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর ফলে উজানের ঢল ও গত সপ্তাহের অতিবৃষ্টিতে হাওরের কষ্টার্জিত ফসল তলিয়ে গেছে।’
তারা আরও বলেন, ‘হাওরের এই শোচনীয় পরিস্থিতি পুরোটাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তা পরিপূর্ণ সঠিক নয়। বেশ কয়েক বছর থেকে হাওরে অপরিকল্পিত কিছু বাঁধ নির্মাণ এবং অপ্রয়োজনীয় নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসলেও সরকার তাতে কর্ণপাত করে নাই। বরং লুটপাটের জন্য এমন কিছু বাঁধ হাওরের ফসল রক্ষার নামে তৈরি করা হয়, যেগুলো কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে ওঠেছে। এবার পাহাড়ি ঢলে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়নি, বরং টানা বৃষ্টির পানি বাঁধের কারণে নদীতে নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল বর্তমানে পানির নিচে। কৃষকের তিন মাসের কষ্টে উৎপাদিত সোনালী ধান তলিয়ে যাওয়ায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ডুবে থাকা পাকা ধানের আশা ছেড়েই দিয়েছেন কৃষকরা। শুকানোর জায়গা ও সুবিধাজনক আবহাওয়া না থাকায় ঘরে তোলা বেশির ভাগ ধানও নষ্ট হয়ে পচে যাচ্ছে। যে সময়টায় সোনালি ধানের ঘ্রাণে ভেসে থাকার কথা, সে সময়ে হাওর জুড়ে হতাশা আর পচা ধানের গন্ধ। হাওর জুড়ে কোলাহল ও প্রাণচাঞ্চল্যের বদলে চাপা কান্না ও আহাজারি ছড়িয়ে আছে।’
তারা বলেন, ‘দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে, যার উল্লেখযোগ্য ২৩ ভাগ হাওর অঞ্চল থেকে উৎপাদিত হয়। অন্যান্য এলাকা এবং হাওরের কৃষি উৎপাদনের মধ্যে সময় ও বাস্তবতায় নানা ফারাক আছে। যে বছর হাওর অঞ্চলের বোরো ধানের ফলন কৃষক নির্বিঘেœ ঘরে তুলতে পারেন, সে বছর চালের দাম ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, নিশ্চিত হয় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা। অন্যথায় চালের বাজারেও অস্থিরতা তৈরী হতে বাধ্য।’
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় হাওরের ফসল সুরক্ষায় আগে থেকে আলাদা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে আগামী ফসল না আসা পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আগামী অন্তত ৬ মাস রেশনিংয়ের ব্যবস্থা জারি রাখা প্রয়োজন। একই সাথে কৃষকের কৃষিঋণ-এনজিও-মহাজনী ঋণ আদায় আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত ও সুদ মওকুফ করতে হবে। হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ ধান চাষিদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ শস্যবিমা চালু করা প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) দূর্নীতি ও অনিয়মের হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। '