নাসিক ১নং ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা, সিআই খোলা, নাসিক ৪নং ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, ছাপাখানা, ভূমিপল্লী, বাতেনপাড়া পাগলাবাড়ী, আলামিন নগর, হীরাঝিল এলাকায় লাখ টাকা দিলেই মিলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। তিতাসের অভিযান না থাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংবাদ প্রকাশিত হলে নাম দেখানো অভিযান চালায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
এসব এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। উক্ত এলাকাগুলোতে কয়েক হাজার নতুন বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। এইসব ভবনে বেশির ভাগই অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে এবং ২টি চুলার অনুমোদন থাকলেও প্রতিটি ভবন ১৫ থেকে ২০ টি অতিরিক্ত চুলা অবৈধ ভাবে ব্যবহার করছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার কারীদের কাছ থেকে মাসে ১ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত এলাকার নামধারী ঠিকাদাররা নিজেরা ও অন্য মানুষ দিয়ে তিতাস কর্মকর্তাদের কথা বলে টাকা আদায় করছে।
উক্ত এলাকার দুই একটি জায়গায় অভিযান চালালেও বাকি এলাকাগুলিতে রহস্যজনক কারণে অভিযান চালাচ্ছে না তিতাস কর্মকর্তারা। অভিযান শেষ হলে মোটা অংকের টাকার বিনিময় রাতের আধারে এসব ভবনে পুনরায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত এলাকায় নতুন বহুতল ভবন কয়েক হাজারেরও বেশি গড়ে উঠেছে। এসব ভবনের বেশিরভাগ গ্যাস সংযোগ অবৈধ বলে জানা যায়। অতিরিক্ত চুলা থেকে প্রতিমাসে এক একটি ভবন থেকে ১ কোটি টাকা তোলা হয় নারায়ণগঞ্জ তিতাস অফিসের কথা বলে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিতে ভবন মালিকদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি অবৈধ অতিরিক্ত চুলা প্রতি ১১০০ টাকা করে নেওয়া হয়।
যেসব ভবন মালিক প্রতিমাসে টাকা দিবে তাদের অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অতিরিক্ত চুলার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।
এলাকাবাসী জানায়, নাসিক ১নং ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা, সিআই খোলা, নাসিক ৪নং ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, ভূমিপল্লী, ছাপাখানা, বাতেনপাড়া পাগলাবাড়ী, আলামিন নগর এলাকা থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ঠিকাদাররা। তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঠিকাদার ও এলাকার মাস্তানদের দিয়ে এসব টাকা কালেকশন করান।
তারা আরো বলেন, রহস্যজনক কারণে তিতাস কর্মকর্তারা উক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে দুই একটি ছাড়া অন্য এলাকাগুলোতে অভিযান চালাচ্ছেন না। কারণ এলাকাগুলো থেকে প্রতি মাসে মাসে কোটি টাকা অবৈধ ভাবে আদায় করা হচ্ছে। এতে করে সরকার মাসে কোটি-কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, উক্ত এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবন মালিক ও ঠিকাদারদের আইনের আওতায় আনা হোক।
সেই সাথে তিতাসের যেসব অসাধু কর্মকর্তারা এই অবৈধ কাজে জড়িত আছেন তাদের বিরুদ্ধে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নারায়ণগঞ্জ তিতাসের গ্যাসের কর্তৃপক্ষ বলেন, উক্ত এলাকাগুলোতে অতি দ্রুত অভিযান করা হবে। সেই সাথে অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। যে সব ঠিকাদার এই কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।